একজীবনে ভদ্রলোক হতে পারলাম না এখনও

একজীবনে ভদ্রলোক হতে পারলাম না এখনও।

সবচেয়ে বহুরূপী মানুষ দেখা যায় ফেসবুকে। সত্যিই এটি ফেসবুক, মাইন্ডবুক নয়। যদিও ফেসবুক খুললেই একটি প্রশ্ন আসে সামনে, what’s on your mind?

 

কিন্তু কেউই তার মনের কথাটা বলেন না। মনে যত নোংরামিই থাক, ফেসবুকের প্রশ্নের জবাবে সবাই সাধু। ফেসবুকে যত সাধুর দেখা পাই, বাস্তবে যদি তা হতো, তাহলে দেশটা বদলে যেতো। মা দিবসে মাকে নিয়ে আবেগঘন স্ট্যাটাস দেওয়া ছেলের মা হয়তো পাশের ঘরে অসুখে কাতরাচ্ছে। হয়তো রাস্তায় কোনও মেয়েকে হেনস্তা হতে দেখেও চুপ করে চলে এসেছে। কিন্তু বাসায় ফিরে সেই ঘটনায় স্ট্যাটাস দেবে, যারা মুখ বুজে অন্যায় সয়েছে, তারা অপরাধী। আমাদের সবাইকে প্রতিবাদ করতে হবে, রুখে দাঁড়াতে হবে। চারপাশে এই বহুরূপী মানুষ দেখতে দেখতে আমরা ক্লান্ত।

 

মানুষ সত্যিই বহুরূপী। বাসায় যিনি বউ পেটান, বাইরে তিনিই বিশাল নারীবাদী। বাসার সহকর্মী বা ড্রাইভারের ন্যায্য পাওনা দেন না, কিন্তু বাইরে বিশাল শ্রমিক নেতা। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তে পড়তে কপালে বিশাল দাগ, কিন্তু ঘুষ ছাড়া কথাই বলেন না। ব্যাংকের টাকা মেরে দিয়ে প্রতিবছর হজ করেন। পত্রিকায় কলামে বড় বড় নীতি কথা লেখেন, টক শো’তে বড় বড় কথা বলেন, অথচ বাসার কাজের মেয়েও তার কাছে নিরাপদ নয়, সুযোগ পেলে রিকশাওয়ালাকে চড় মারেন, গালি দেন। দেখে বোঝার উপায় নেই, কে সম্ভাব্য খুনি বা ধর্ষক। সবচেয়ে সফেদ পোশাক পরা মানুষটিও হয়তো সুযোগ পেলে নারীর বুকে হাত দিয়ে দেবে। এমন বহুরূপী মানুষে ভরপুর আমাদের সমাজ

 

নিজের গায়ের রং এবং চেহারা নিয়ে আমার মনে কখনই কোন জটিলতা ছিল না এখনও নেই। আর পোশাক আমার কাছে সারাজীবনই লজ্জা নিবারণের বস্তু হিসেবেই বিবেচ্য কিন্তু একটু বড় হয়ে যখন শহুরে ভদ্র সমাজে ঢুকে পড়লাম মুশকিলটা শুরু হল তখন থেকে। আমার চেহারা এবং পোশাক পরিচ্ছদ দেখেই সবাই ধরে নেয় আমি সর্বোচ্চ গরুর রাখাল হতে পারি এর বেশি কিছু নই।

 

বিশেষকরে কেনাকাটা করতে গিয়ে অনেকবারই এমন সব পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি যেটা নিয়ে পরে অনেকবার হেসেছি। একবার উত্তরা হাউস বিল্ডিঙের নামকরা এক শপিং মলের একটা দোকানে গেছি প্যান্ট কিনতে। দোকানি ছেলেটা প্যান্ট দেখানো শুরু করলো। আমি একটু ভালো কিছু দেখাও বলে অন্য দিকে রাখা প্যান্টগুলার দিকে ইঙ্গিত করতেই সে উচ্চস্বরে বলে উঠলো ঐগুলোর দাম এত টাকা। মানে ব্যাপারটা হচ্ছে, তুমি বাপু রাখাল মানুষ এই প্যান্ট তুমি কিনতে পারবে না।

 

আমি ছেলেটাকে কোন দোষ দেই না। এটাই আমাদের ভদ্রসমাজের ভদ্রলোক মাপার মাপকাঠি। যার পোশাক যত ভালো তার স্ট্যাটাস তত উঁচু। আমি যেহেতু কখনই ভালো কোন পোশাক পরি নাই তাই আর একজীবনে ভদ্রলোক হতে পারলাম না এখনও।

 

লেখক-গোলাম মোস্তফা

সাংবাদিক ,ফুলপুর তারাকান্দা, ময়মনসিং।

SHARE THIS POST