আমি চাই না ময়মনসিংহ অঞ্চলে আরেক মুজিবের উত্থান ঘটুক!

আমি সময় ও প্রজন্মের একজন যোদ্ধা হিসেবে এবং ময়মনসিংহের একজন হয়ে আমাদের বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রচন্ড গর্বের ধন, বাংলার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের সর্বাধিনায়ক আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে স্মরণপূর্বক তারই পরম আস্থাশীল বিশ্বতবন্ধু-

 

বাংলার প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান নেতৃত্বদানকারী

“শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলামের অমর আত্মার কীর্তির প্রতি কৃতজ্ঞতা স্বরূপ কিছু কথা বলতে চাই-

“ইতিহাসের শিক্ষা ইতিহাস থেকে কেউ নেয় না; যদিও ইতিহাসের শিক্ষা ইতিহাসেই বিদ্যমান!”

 

তারই রেশ ধরে খুঁজতে চেষ্টা করলাম ইতিহাসের মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অন্যতম সহচরদের!

দীর্ঘদিন অন্বেষণের পর যে সত্যের সাক্ষাৎ পেলাম,সেই সত্যটার কিছুমাত্র প্রজন্মের কাছে অতি সংক্ষেপে প্রকাশের সাহস করলাম!

 

আমাদের অহংকারী ময়মনসিংহবাসীর প্রত্যেকের উচিত #শহীদ_সৈয়দ_নজরুল_ইসলাম সাহেব’কে ভালো ভাবে জানা ও বিনম্র শ্রদ্ধায় তার আদর্শকে ধারণ করা, বিশেষত যারা আজ আমরা বঙ্গবন্ধুর আওয়ামীলীগ করি বা নিজেকে পরিচয় দিয়ে থাকি তাদের জন্যতো তা বাধ্যতামূলক। কেননা আমি মনে করি ময়মনসিংহের..

 

– শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম’কে না জেনে আওয়ামী লীগ করাটা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সাথে প্রতারনা করার শামিল!

– শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম’কে না জেনে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুখস্ত বাতলাইলে তা চরম মিথ্যা বলা হবে!

– শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম’কে না জেনে যদি কেউ নিজেকে অহংকারী মমিসিংঙ্গা দাবি করেন তবে তা নির্লজ্জের মতন দেখাবে!

 

আমার অন্বেষণে পাওয়া শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম:

  • – একজন রাজনৈতিক,
  • – একজন তাত্ত্বিক,
  • – একজন পদস্থ আমলা,
  • – একজন আইনজ্ঞ,
  • – একজন অধ্যাপক

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট, এরপর ৩ নভেম্বর- একই বছরের তিনমাসের ব্যবধানে একটি দেশের জাতির জনক ও তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযােগিদের নৃশংসতম হত্যাকাণ্ডের দৃষ্টান্ত বিশ্ব ইতিহাসে বিরল। এর ফলে যে পট পরিবর্তন হলাে, তখন থেকেই শুরু হলাে ইতিহাস বিকৃতির কূটকৌশল । একটা দীর্ঘ সময় প্রজন্মকে ঐতিহাসিক সত্যের অন্তরালে রাখার প্রয়াস ছিল বিরামহীন। এই বিকৃতির ফলে সত্য তথ্য ভিত্তিক ইতিহাস থেকে স্বাধীনতার স্থপতি ও তাঁর মতাদর্শের অনুসারী রাজনৈতিক নেতা ও কর্মীসহ রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানটিও উপেক্ষিত হয়ে আসছিল।

 

আমরা জানি-

সাধারণত পাঠ্য তালিকাভুক্ত ইতিহাস থেকেই শিক্ষার্থীগণ ইতিহাস জানার সুযােগ পায় । কিন্তু বাংলাদেশ সৃষ্টির উদ্যোগ প্রেক্ষাপট, তার ক্রমপ্রসার এবং বিজয়সাফল্যের ইতিহাস অনেকটাই গুরুত্বহীনভাবেই লিখিত হয়েছিল ।

 

দুর্ভাগ্যের বিষয় এই, ইতিহাস সমৃদ্ধ মুজিবনগরে গঠিত গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী রাষ্ট্রপতিরূপে সৈয়দ নজরুল ইসলামের ভূমিকা যতটা গুরুত্ব পাওয়ার অধিকার রাখে- সেটাও রক্ষিত হয়নি। অথচ যে কোন দেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সঠিক ইতিহাস ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি সুরক্ষিত এবং সংরক্ষিত দলিল । যদি তা না হয়, ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করবে না। এর দায়ভার আর কলঙ্কের বােঝা আমাদেরই বইতে হবে চিরকাল‌।

 

ঐতিহাসিক সত্য একদিন না একদিন প্রকাশিত হয়- ইতিহাস তা প্রমাণ করে। অক্ষয় কুমার মৈত্রেয় ইংরেজদের দেয়া নবাব সিরাজ-উদ-দৌলার কলঙ্ক মােচনের জন্য অন্ধকূপে হত্যা মিথ্যে ছিলাে- তা প্রমাণ করে গেছেন। তাই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু মুজিবুর রহমান-এর সাথে যদি তাঁর সহকর্মীদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার কোন উদ্যোগ গ্রহণ না করা হয়, তবে ভবিষ্যতে ইতিহাস বিকৃতির অভিযােগ এ ক্ষেত্রেও প্রযােজ্য হবে- যা একটা স্বাধীন দেশের জন্য কি পরিমাণ অনিষ্ট ও ক্ষতিকর তা ভেবে দেখার অবকাশ অবশ্যই রয়েছে।

 

– শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আমৃত্যু ঘনিষ্ঠ সহচর-সহযোগী!কখনো বিপ্লবী,কখনো নিশ্চুপ ভাবুক!

সর্বোপরি তিনি নির্ভীক দেশপ্রেমিক,ভীষণ বিশ্বাসী,নিভৃতচারী পরোপকারী!

বক্ষ্মপুত্রের বাঁকে বাঁকে তিনি জীবন খুঁজেছেন,দেখেছেন শাসক আর শোষোতিতের মাঝে বিশাল বৈপরীত্য!

সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর রাজনৈতিক কর্মে একজন সাহসী সাংগঠনিক এবং স্বাধীন বাংলাদেশের একজন সংকটকালীন নেতা যাঁর প্রমাণ ইতিহাস ঘাটলেই পাওয়া যায়!

দেশ ও জাতি যখনই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় অবস্থার সম্মুখীন হতো তখনই তাদের সামনে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম তাঁর রাজনৈতিক মেধা ও দুরদর্শীতা দিয়ে বলিষ্ঠ হাতে সে সংকট মোকাবেলা করেছেন।

 

এই দিশেহারা বুভূক্ষ বাঙালি জাতিকে নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখনই সমস্যায় পড়েছেন তখনই আশু সংকট নিরসনে সৈয়দ নজরুল ইসলামের স্মরণাপন্ন হয়েছেন এবং সব সময় সঠিক সমাধানই পেয়েছেন!

 

সৈয়দ নজরুল ইসলাম ছিলেন আজন্মই একজন কৃতজ্ঞতাবোধ সম্পন্ন একজন মানুষ!

পল্টনের এক বিশাল জণসমুদ্রে আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে বঙ্গবন্ধুর আসনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় খালি রাখেন এবং পৌনে দুই ঘন্টা জাতির উদ্দেশে ঘটনমূলক বক্তব্য দেন!

ক্ষমতার লোভ বা কোন প্রলোভন তাকে ছুঁতেও পারেনি কোনদিন তাই তো পূর্ব পাকিস্তানের সাবেক গভর্নর মোনায়েম খানের মন্ত্রীত্বের মোলায়েম প্রস্তাবও নিঃস্বার্থ ঘৃণা ভরে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন-‘আপনার যা ইচ্ছা করুণ কিন্তু আমি কখনোই নীতিভ্রষ্ট হবো না’!

 

‘৬৯ এর গণঅভ্যুত্থানে জামালপুরের জনাকীর্ণ এক সমাবেশে ভাষণ দেওয়ার সময় সৈয়দ নজরুল ইসলাম বলেছিলেন-

“আদর্শবানদের জীবন বড়ই দুঃখের জীবন। তারা ইতিহাসের ধারা পাল্টে দিতে সক্ষম। ইচ্ছা করলে আবার তা অব্যাহত রাখতেও সক্ষম।”

আদর্শ প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে, আদর্শবান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে বহু অত্যাচার নির্যাতন এবং নিপীড়ন সহ্য করতে হয়েছে।

সৈয়দ নজরুল ইসলামের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে বহুবার পুলিশী নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন, এমনকি নির্মম বেত্রাঘাতের বেদনাও সহ্য করেছেন কিন্তু খুব কম সময়ই কারাবরণ করেছেন!

 

এরও কিন্তু ইতিহাস আছে- সাংবাদিকেরা মোনায়েম খানকে একবার বলেছিলেন-

“শেখ মুজিবকে বারবার আটক করলেও সৈয়দ নজরুল ইসলামকে কেন আটক করা হচ্ছে না?’

 

এর উত্তরে মোনায়েম খান বলেছিলেন-

“আমি চাই না ময়মনসিংহ অঞ্চলে আরেক মুজিবের উত্থান ঘটুক!”

আর এ থেকেই বুঝা যায় আমাদের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম কতটা নেতৃত্ব গুণসম্পন্ন একজন নেতা ছিলেন!

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ৫৪র যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজে সৈয়দ নজরুল ইসলামের বক্তব্যে মুগ্ধ হয়ে তাঁর ভূয়সী প্রশংসা করেন এবং ভবিষ্যতকে নেতৃত্ব দানে সক্ষম একজন দক্ষ ব্যক্তি হিসেবে অভিহিত করেন!

 

থাক আজ কিছু বলবো না, জাতির এই মহান মানুষটি সম্পর্কে হয়তো কমই বলা হবে! তবুও শুধু এতটুকু বলবো-

“বাংলাদেশ” যদি একটি ইতিহাসের নাম হয় আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যদি হয় সে ইতিহাসটার জনক’-

তবে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম অবশ্যই সে ইতিহাসের রচিয়তা!

 

লেখক মোঃ রকিবুল ইসলাম রকিব
সভাপতি,
বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, ময়মনসিংহ জেলা শাখা।

SHARE THIS POST